Tuesday , 21 August 2018

থ্রিজিতে সুবিধা করতে না পেরে পিছিয়ে গেছে বাংলালিংক

অন্য বড় দুই অপারেটরের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে এক সময়ের দ্বিতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর বাংলালিংক।

রবি-এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর অপারেটরটি যেমন গ্রাহক বিচারে তৃতীয় স্থানে নেমেছে, তেমনি আয় ও বিনিয়োগও কমতে শুরু করেছে।

অপারেটরটির মূল কোম্পানি ভিয়ন ২০১৭ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে, অন্য বড় অপারেটরের তুলনায় তাদের থ্রিজি নেটওয়ার্ক তেমন শক্তিশালী না হওয়ায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে তারা।

তবে ফোরজি দিয় ঘুরে দাঁড়াতে স্পেকট্রাম কিনতে তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে অপারেটরটি।

২০১৭ সালে অপারেটটি মোট আয় করেছে চার হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল চার হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। শতকরা হিসাবে আয় কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

তবে বরাবরের মতো অপারেটটির লাভ-লোকসানের বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছুই উল্লেখ করেনি ভিয়ন।

মোট আয় কমলেও ডেটা থেকে কিন্তু তাদের আয় বেড়েছে। গত বছরে তারা ডেটা থেকে মোট ৬৩০ কোটি টাকা আয় করেছে। আগের বছরে যা ছিল ৪৯০ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন বলছে, স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ায় ডেটার ব্যবহার বেড়েছে।

কার্যকর গ্রাহকের সংখ্যাও ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে তিন কোটি ২৩ লাখ হয়েছে।

গ্রাহক বাড়লেও গ্রাহকপ্রতি মাসিক আয় মাত্র ১১১ টাকায় নেমে আসার বিষয়টি মোট আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রাহকপ্রতি বাংলালিংকের মাসে আয় এখন দেশে যাত্রা শুরুর পর যে কোনো সময়ের থেকে সর্বনিন্ম পর্যায়ে চলে এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন অপারেটটির এক বড় কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, সামনের দিনে কি হবে সেটি বলা এখনই সম্ভব নয়। তবে অপারেটরটির ভেতরে নানা রকম আলোচনা রয়েছে।

বাংলালিংক গত দুই বছরে অনকে কর্মী ছাঁটাই করেছে। খরচ কমিয়ে এনেছে নানা দিক দিয়ে।

ভিয়নের প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের শেষের দিকে দেশের কয়েকটি এলাকায় বন্যায় তাদের নেটওয়র্কে প্রচন্ড ক্ষতি হয়। এটি কাটিয়ে উঠতে তারা শেষ প্রান্তিকে এসে অনেক বিনিয়োগ করেছে। অক্টোবর-ডিসেম্বরের ওই প্রান্তিকের আয়ে তা সবচেয়ে বড় চাপ ফেলেছে।

বাংলালিংক গত বছরে সব মিলে ৮২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবে ঘুরে দাঁড়াতে ফেব্রুয়ারিতেই স্পেকট্রাম নিলামে তারা ১০ দশমিক ৬ মেগাহার্ডজ স্পেকট্রাম কিনেছে। এটি নেটওয়ার্ককে আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী করবে বলেও মনে করছেন কর্মকর্তারা।

এর জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করতে হয়েছে।

Leave a Reply